আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন পাপুলের স্ত্রী-কন্যা

দুর্নীতি মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেই জামিন পেলেন মানবপাচারের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের স্ত্রী সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম ও মেয়ে ওয়াফা ইসলাম।

রোববার (২৭ ডিসেম্বর) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

এর আগে ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে পাপুলসহ তার স্ত্রী-কন্যাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ দুদকের উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে গত ১১ নভেম্বর পাপুলসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সংসদ সদস্য কাজী সহিদ ইসলাম পাপুল ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন, পাপুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম, শ্যালিকা জেসমিন প্রধান ও মেয়ে ওয়াফা ইসলাম।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আসামিদের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৩১ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ ও ১৪৮ কোটি টাকার লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের আড়ালে জেসমিন প্রধানের পাঁচটি হিসাবের মাধ্যমে ২০১২ সাল থেকে ২০২০ পর্যন্ত লন্ডারিং হয় ১৪৮ কোটি টাকা। অথচ মাত্র বয়স ২৩ বছর বয়সী জেসমিনের নিজের আয়ের উৎস নেই।

অন্যদিকে, এফডিআর হিসাবের ২ কোটি ৩১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৮ টাকার উৎস শ্যালিকা জেসমিন দাখিল করতে পারেননি।

এদিকে পাপুল, তার স্ত্রী এবং মেয়ের ৬১৭টি ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।এছাড়া পাপুলসহ আটজনের আরও ৫৩টি ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

রোববার (২৭ ডিসেম্বর) দুদক ও সিআইডির আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম কেএম ইমরুল কায়েস এ নির্দেশ দেন।

দুদকের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর বলেন, পাপুল, তার স্ত্রী, মেয়ে ও শ্যালিকার ৬১৭টি ব্যাংক হিসাব জব্দের আবেদন করে দুদক। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক ব্যাংক হিসাবগুলো জব্দের নির্দেশ দেন।

তিনি বলেন, সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের ১৪৮টি, স্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলামের ৩৪৫টি, মেয়ে ওয়াফা ইসলামের ৭৬ এবং শ্যালিকা জেসমিন প্রধানের ৪৮টি জব্দ করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল বলেন, পাপুলসহ আটজনের ৫৩টি ব্যাংক হিসাব জব্দের আবেদন করে সিআইডি। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ দেন।

পাপুল ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব তদন্ত করে মোট ৩৫৫ কোটি ৮৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা জমা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় মানি লন্ডারিং আইনে গত মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) পল্টন থানায় একটি মামলা করা হয়।

মামলার আসামিরা হলেন- কাজী শহিদুল ইসলাম পাপুল, মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান মনির (পাপুলের ব্যক্তিগত কর্মচারী), জেসমিন প্রধান (পাপুলের শ্যালিকা), ওয়াফা ইসলাম (পাপুলের মেয়ে), কাজী বদরুল আলম লিটন (পাপুলের ভাই), গোলাম মোস্তফা (মানবপাচারে সংশ্লিষ্ট জব ব্যাংক ইন্টারন্যাশনাল প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার)।

এছাড়া মামলায় দুটি প্রতিষ্ঠানকে আসামি করা হয়েছে। সেগুলো হলো- জে. ডব্লিউ লীলাবালী ও জব ব্যাংক ইন্টারন্যাশনাল। জে. ডব্লিউ লীলাবালীর প্রোপ্রাইটর পাপুলের শ্যালিকা জেসমিন প্রধান এবং জব ব্যাংক ইন্টারন্যাশনালের প্রোপাইটার পাপুলের ভাই কাজী বদরুল আলম লিটন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *