কাশ্মিরে স্থানীয় নির্বাচনে বড় জয় পেল বিজেপিবিরোধী গুপকর জোট

ভারতশাসিত জম্মু-কাশ্মিরে ডিস্ট্রিক্ট ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল (ডিডিসি) নির্বাচনে সাত দলীয় জোট গুপকার অ্যালায়েন্স বড় জয় পেয়েছে। মোট ২৮০টি আসনের মধ্যে তারা পেয়েছে ১১২টি আসন। পাশাপাশি একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এল বিজেপি। ৭৪টি আসন পেয়েছে তারা। এখন পর্যন্ত বন্দিপোরা, কাপুরা, পুঞ্চ, রাজৌরির চূড়ান্ত ফল পাওয়া যায়নি। জম্মু কাশ্মিরে ডিডিসির ২৮০টি কেন্দ্রে ভোট হয়েছে মোট আট দফায়। ভোটগ্রহণ শুরু হয় ২৮ নভেম্বর।

এছাড়াও কাশ্মিরের ৯৩৫টি পঞ্চায়েত ও সরপঞ্চের ১১ হাজারেরও বেশি শূন্যপদে ভোট হয়েছে। প্রতিটি আসনেরই ভোটগণনা শুরু হয়েছিল মঙ্গলবার সকালে।

৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর এই প্রথম গণতান্ত্রিক ভোট হলো।

এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে, গুপকর ও বিজেপিকে সরিয়ে রেখে, নির্দলীয় প্রার্থীরা পেয়েছেন ৪৯টি আসন, কংগ্রেস পেয়েছে ২৬টি আসন, আপনি পার্টি পেয়েছেন ১২টি আসন, পিডিএফ, ন্যাশনাল প্যানথার্স পার্টি পেয়েছে দুটি করে আসন, বিএসপি পেয়েছে একটি আসন।

কাশ্মিরে ফারুক আবদুল্লাহর ন্যাশনাল কনফারেন্স পেয়েছে ৭২টি আসন। শাসক দল বিজেপি পেয়েছে মাত্র তিনটি আসন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছে ৪৯টি আসন, যা কংগ্রেস কিংবা পিডিপির চেয়ে বেশি।

জম্মু রাজ্যে বিজেপি ৭১টি আসন পেয়েছে। ফারুক আবদুল্লাহর ন্যাশনাল কনফারেন্স ও কংগ্রেসের একযোগে প্রাপ্ত আসন ৪৫।
ওদিকে কাশ্মিরে এই প্রথম আসন পেয়ে দারুণ খুশি বিজেপি।

গুপকর জোটকে প্রথম থেকেই গুপকর গ্যাং বলতে শুরু করেছিল বিজেপি। দীর্ঘ দিন বন্দী থাকার ফলে প্রচারেরও সুযোগ পাননি পিডিপি নেত্রী মেহেবুবা মুফতি বা ফারুক, ওমররা। তারপরেও এই জয়কে তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছে জোট। তাদের মতে, এই জয় আসলে বুঝিয়ে দিচ্ছে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত কাশ্মিরবাসী পছন্দ করেনি। অন্যদিকে, ৭৪টি আসন জয়ে পরিবর্তনের আলো দেখছে বিজেপিও।

গুপকর জোটের এই জয় তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনীতিকেরা। জম্মু-কাশ্মিরে ভোটের দায়িত্বে থাকা বিজেপি নেতা অনুরাগ ঠাকুর দাবি করেন, বিজেপি খুবই ভালো ফল করবে। কারণ, জম্মু-কাশ্মিরের বাসিন্দারা নয়া নেতৃত্ব খুঁজছেন। তার কথায়, ‘জম্মু-কাশ্মিরে তৃণমূল স্তরের ভোট করানো নিয়ে মোদিজির স্বপ্ন সার্থক হলো।’

ভোটের চিত্র কিছুটা স্পষ্ট হতে গুপকর জোটের শরিক ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ওমর আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের কাছে এই জয়ের তাৎপর্য কী, বলে বোঝানো যাবে না।’ তার মতে, ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট থেকে জম্মু-কাশ্মিরে যা ঘটেছে তা বাসিন্দারা সমর্থন করেন না। সেটাই তারা বুঝিয়ে দিয়েছেন।

তবে জম্মু-কাশ্মিরের বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিবোধ গুপ্তের দাবি, তিনটি আসনে বিজেপির ঐতিহাসিক জয় বুঝিয়ে দিচ্ছে উপত্যকায় পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে।

রাজনীতিকেরা মনে করাচ্ছেন, গুপকর জোটকে ‘গুপকর গ্যাং’ নাম দিয়ে গোড়া থেকেই কোণঠাসা করার চেষ্টা করেছে বিজেপি। দীর্ঘদিন বন্দী রাখার পরে এখন ফারুকসহ গুপকর জোটের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা চালানো হচ্ছে। আচমকা ভোট ঘোষণার ফলে প্রস্তুতির তেমন সুযোগও পায়নি বিরোধী দলগুলো। ফারুক, ওমর ও পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি প্রচারও করেননি। তারপরও এই ফল জোটের কাছে বড় সাফল্য।

মনোনয়ন পেশ করার পরেই সন্ত্রাসের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পিডিপি’র যুবনেতা ওয়াহিদ প্যারাকে হেফাজতে নিয়েছিল এনআইএ। বন্দি অবস্থাতেই জিতেছেন তিনি। গুপকর জোটের নেতাদের দাবি, জম্মু-কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা লোপ, নেতাসহ বাসিন্দাদের বন্দি করার মতো পদক্ষেপকে প্রত্যাখ্যান করেছেন মানুষ।

সূত্র : এনডিটিভি, আলজাজিরা ও নিউজ ১৮

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *