অবিশ্বাস্য, মাত্র ৩ দিনেই করোনামুক্ত!

বিশ্বব্যাপী এখন আতঙ্কের নাম করোনাভাইরাস। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৯৬টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস। কেড়ে নিয়েছে ২০ হাজার ৪৯৪ জনের প্রাণ।

এছাড়া বিশ্বব্যাপী এই ভাইরাসে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৪ লাখ ৫২ হাজার ১৬৮ জন।

চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে এই ভাইরাস এখন তাণ্ডব চালাচ্ছে ইউরোপের দেশ ইতালিতে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৭৪ হাজার ৩৮৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৫ হাজার ২১০ জন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ইতালিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৫০৩ জনে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ব্রিটেনেও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ভাইরাস। এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৮ হাজার ২২৭ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৪৩৩ জনের।

দেশটিতে আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয়ী নায়ক জ্যাক বাউডেন। বতর্মানে তার বয়স ৯৮ বছর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতোই করোনাভাইরাসকেও জয় করলেন তিনি। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে পজেটিভ হওয়ার মাত্র তিন দিনের মধ্যেই তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

জ্যাক বাউডেন একজন সাবেক ফার্মাসিস্ট। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি পেনিসিলিনের অত্যাবশ্যকীয় উৎপাদন তৈরির কাজ করেছিলেন। গত ১৮ মার্চ তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরীক্ষায় তার করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে।

এই মহান দাদু দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেন এবং শনিবার বোল্টনে তার নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন।

জ্যাকের কনিষ্ঠ পুত্র মার্ক (৫৮) বলেছেন যে, ‘তিনি বিদায় চিঠি লিখেছিলেন যখন ডাক্তাররা তাকে বলেছিলেন যে তার বাবা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আমি ভেবেছিলাম আমি আর তাকে দেখতে পাব না। আমি তাকে একটি সুন্দর চিঠি লিখেছিলাম। তবে শুক্রবারের মধ্যে নার্সরা বলেছে যে সে আশ্চর্যজনক কাজ করছে এবং তার বুকে হালকা হালকা সংক্রমণ হয়েছে।’

রয়্যাল বোল্টন হাসপাতালের চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে, সাবেক রয়েল নেভির এই কর্মকর্তাকে ওয়ার্ডে রাখার চেয়ে তার বাড়িতে আইসোলেশনে রাখলে সেটাই তার জন্য ভালো হবে। হাসপাতালের ওয়ার্ডে থাকলে তার ঝুঁকি রয়েছে।

শুরুতে চিকিৎসকরা জ্যাককে কিভাবে চিকিৎসা দেবেন সেটা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন। তবে তাকে সন্দেহজনক জ্বরের সংক্রমণের জন্য চিকিৎসা করা হয়েছিল এবং এতেই তার উন্নতি শুরু হয়েছিল।

তিনি এখন পুরোপুরি সুস্থ্য হয়ে উঠেছেন এবং তার ফুসফুসেও কোন সংক্রমণ নেই। ডাক্তাররা তার এই ৯৮ বছর বয়সে করোনা জয়কে টেস্ট কেস হিসাবে নিতে চান। দেখতে চান কিভাবে তিনি এত দ্রুত সুস্থ হলেন। এটা অনন্য বয়স্ক রোগীদের চিকিৎসায় পথপ্রদর্শক হতে পারে।

মানবসভ্যতার ইতিহাসে এযাবৎকালের ভয়াবহতম সংঘাতের নাম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। জার্মান নাৎসি বাহিনীর আক্রমণে ১৯৩৯ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত টানা ছয় বছর ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া রক্তক্ষয়ী এ যুদ্ধে সাত কোটির বেশি সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করা প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসকে অনেকেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতার সঙ্গে তুলনা করছেন। এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষ। মৃত্যু হয়েছে প্রায় ২০ হাজার মানুষের।

Add a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *